করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঘরে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। রূপকল্প ২০৪১: শিক্ষার মান উন্নয়ন
Latest Activities
Showing posts with label শিক্ষার মান উন্নয়ন. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষার মান উন্নয়ন. Show all posts

কীভাবে একটি পূর্ণ ভাষা হতে পারে গণিত ?

Detail
গণিতকে বলা হয় বিজ্ঞানের ভাষা। আমরা ভাষা বলতে যা বুঝি, গণিত কি তেমনই বাংলা, ইংরেজি কিংবা ম্যান্দারিনের মতো কোনো ভাষা? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের দেখতে হবে গণিতের শব্দ ও ব্যাকরণ কীভাবে এক একটি বাক্য রচনা করে।

ভাষা কী?
ভাষার বহুরকম সংজ্ঞায়ন হতে পারে। ভাষা হতে পারে কিছু শব্দ বা সংকেত, যেগুলো কিছু নিয়মের অধীনে থাকে। আবার বলা যেতে পারে, শব্দ কিংবা প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের একটি পদ্ধতি। বিশ্ববিখ্যাত ভাষাবিদ নোয়াম চমস্কি ভাষাকে সংজ্ঞায়ন করেন সসীম সংখ্যক উপাদান দিয়ে গঠিত বাক্যসমগ্র বলে।

যেভাবেই সংজ্ঞায়ন করা হোক, আমরা সার্বিক বিবেচনায় কিছু উপাদানকে ভাষার বৈশিষ্ট্যের সূচক বলে ধরতে পারি।


  • অবশ্যই শব্দ বা প্রতীক সমূহের একটি অভিধান বা তালিকা থাকবে।
  • সেসব শব্দ বা প্রতীকের অবশ্যই অর্থ থাকতে হবে।
  • ভাষায় ব্যাকরণের প্রয়োগ থাকবে। অর্থাৎ কিছু নির্ধারিত নিয়ম থাকবে যা ভাষায় ব্যবহৃত শব্দগুলো ব্যবহারের সীমারেখা বলে দিবে।
  • প্রতীকগুলো দিয়ে বাক্য গঠনের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ বা উপস্থাপন করা যাবে। বাক্য গঠনের মাধ্যমে ভাব উপস্থাপন করে তার ধারাবাহিক বর্ণনা সম্ভব হতে হবে।
  • আর অবশ্যই একদল মানুষ থাকতে হবে যারা সে ভাষা বুঝবে এবং ব্যবহার করবে।
ভাষা চর্চিত হবে একদল মানুষের মাঝে, আর ভাষাটি তাদের পারস্পরিক বোধ্যগম্যও হতে হবে

এই শর্তগুলো হাতে নিয়ে গণিতের দিকে তাকালে দেখা যায়, গণিত সবগুলো শর্তই পূরণ করে বসে আছে। বিশ্বব্যাপী গণিতের প্রতীক, তার অর্থ, ব্যবহার আর ব্যাকরণ একই। 
গণিতবিদ, বিজ্ঞানী এবং অন্যান্যরা ধারণার আদান-প্রদানে গণিতকে ব্যবহার করেন। 
গণিত যেমন একদিকে বাস্তব ঘটনাকে বর্ণনা করতে পারে, তেমনই বিমূর্ত ধারণাকেও বর্ণনা করতে পারে। এমনকি গণিতের এমন একটি শাখা আছে, যেখানে নিজেই নিজেকে বর্ণনা করতে পারে। 
ঐ শাখাটি হলো মেটা-ম্যাথমেটিকস।

অভিধান, ব্যাকরণ ও পদবিন্যাস
গণিতের অভিধান সাজানো হয়েছে বিভিন্ন বর্ণমালা থেকে। পাশাপাশি এতে আছে বিভিন্ন চিহ্ন, যেমন যোগ কিংবা বিয়োগ। একটি গাণিতিক সমীকরণকে বলা যায় শব্দের সমাহারে তৈরি বাক্য। 
একটি সরল গাণিতিক সমীকরণ বিবেচনা করি।

3 + 5 = 8
একে পড়া যায়- তিন এর সাথে পাঁচ যোগ করলে আট এর সমান হয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি পরিপূর্ণ বাক্য।
গণিতের ভাষায় বিশেষ্য পদ হলো এগুলো
সংখ্যা অংক (0, 2, 5, 9, 17 ইত্যাদি)
ভগ্নাংশ (1⁄4, 5⁄9, 2 1⁄3)
চলক (a, b, c, x, y, z ইত্যাদি)
রাশি (3x, x^2, 4+x ইত্যাদি)
রেখাচিত্র বা দৃশ্যমান উপাদান (বৃত্ত, কোণ, ত্রিভুজ, টেন্সর, ম্যাট্রিক্স ইত্যাদি)
অসীম সংখ্যা (∞)
পাই (π)
কাল্পনিক সংখ্যা (i, -i)
আলোর বেগ (C)
গণিতে ব্যবহৃত প্রতীক দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে বাক্য
গণিতের ক্রিয়াপদগুলো
সমান অসমতা চিহ্ন (=, <, >)
গাণিতিক ক্রিয়া, যেমন- যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, বর্গমূল করা। (+, ­, ×, ÷)
অন্যান্য ক্রিয়া (sin, cos, tan, sec ইত্যাদি)
গণিতের ব্যাকরণ এবং বাক্যগঠন অভিধানের মতোই আন্তর্জাতিক। কেউ যে দেশেরই লোক হোক, যে ভাষাতেই কথা বলুক, গাণিতিক ভাষার গঠন সকল দেশে একই। গাণিতিক সার্বজনীনতা সকলের জন্য সমান।
  • গাণিতিক সূত্র বা বিধিগুলো লেখা হয় বাম থেকে ডান দিকে।
  • পরিমাপ এবং চলকের জন্য ল্যাটিন বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়। কিছু গ্রিক বর্ণও ব্যবহার করা হয়। পূর্ণসংখ্যাগুলো বোঝাতে নেয়া হয়েছে i, j, k, l, m, n বাস্তব সংখ্যাকে প্রকাশ করা হয় a, b, c, α, β, γ দিয়ে। জটিল সংখ্যাকে নির্দেশ করতে ব্যবহার করা হয় w এবং z প্রতীক। অজানা চলকের জন্য x, y, z এবং ফাংশনের নামের জন্য f, g, h
  • বিবিধ বিশেষ সংজ্ঞার জন্য গ্রিক বর্ণমালা ব্যবহৃত হয়। যেমন, λ দিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্য আর ρ দিয়ে বোঝায় ঘনত্ব।
  • বন্ধনী চিহ্নগুলো নির্দেশ করে প্রতীকগুলো কোন ক্রম অনুসরণ করবে।

গণিতের রাশিমালা সবসময় লিখতে হয় বাম দিক থেকে
ভাষা একটি শিক্ষা উপকরণ
কীভাবে গাণিতিক বাক্যগুলো কাজ করে তা জানলে গণিত শেখা শেখানো উভয় পক্ষের জন্যই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। সংখ্যা এবং প্রতীক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। তাই কোনো পরিচিত ভাষায় সমীকরণকে বর্ণনা করলে তা সহজে শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহণীয় হয়। মূলত, এটা অনেকটা কোনো বিদেশী ভাষাকে নিজের ভাষায় রূপান্তরের মতো।

যেহেতু পৃথিবীব্যাপী গণিত একই, তাই স্বভাবতই গণিত একটি বিশ্বজনীন ভাষা। গণিতের কোনো সংজ্ঞা কিংবা সূত্রের অর্থ বিভিন্ন ভাষায় একই। দুজন মানুষের মধ্যে কথ্য ভাষায় ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু গণিত সেই যোগাযোগ বাধা উৎরে গিয়েও কাজ করতে পারে।

গণিত শুধু সংখ্যা আর সমীকরণ নয়
গণিত বলতে শুরুতেই মোটাদাগে সংখ্যা আর সংখ্যাদের দিয়ে কিছু ক্রিয়া (যেমন, যোগ, বিয়োগ, ভাগ, বর্গমূল ইত্যাদি) বোঝায় না। বিমূর্ততা, ভাবমূলক বর্ণনা, বস্তুনিরপেক্ষ সংজ্ঞায়ন গণিতের চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। জ্যামিতির কথাই বিবেচনা করি। একটি বস্তু কেমন হতে পারে তা গণিতের আওতাধীন। এমনকি কোনো বস্তু কেমন হওয়া অসম্ভব তা- গণিত শাস্ত্রের আওতাধীন।
সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যাবে, মানুষের দ্বারা যত ভাষা সৃষ্টি হয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে আদিম কিন্তু এই গণিতই। যুক্তি যাচাইয়ের ভিত্তি হিসেবে সবসময় কাজ করেছে এই গণিত। ধর্ম, সংস্কৃতি, লিঙ্গ, কাল ইত্যাদি কোনোকিছুই ধারণার পরিবর্তন করতে পারেনি।

গণিতকে ভাষা না বলার যুক্তি
গণিতকে ভাষা বলার যুক্তি যেমন আছে, তেমনই একে নিয়ে আছে বিপরীত মত কিংবা ভিন্ন মত। অনেক ভাষাবিদ একে ভাষা হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ। কারণভাষা কোনো কোনো সংজ্ঞায় যোগাযোগকে কথ্যরূপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গণিত মূলত যোগাযোগের একটি লিখিত মাধ্যম; যেখানে খুব সরল একটি সমীকরণ সহজেই পড়ে ফেলা সম্ভব (যেমন- 1 + 1 = 2), কিন্তু জটিল কোনো সমীকরণ যেমন, ম্যাক্সওয়েলের সমীকরণ পড়তে গেলে বক্তার মাতৃভাষার সহায়তা নিতেই হবে- যে কারণে গণিত তাদের মতে ভাষা হিসেবে বিশ্বজনীনতা হারায়।

একই যুক্তিতে ইশারা বা সাংকেতিক ভাষার (Sign language) স্বীকৃতিও কেড়ে নেয়া যায়। কিন্তু অধিকাংশ ভাষাতাত্ত্বিকেরা সাংকেতিক ভাষাকে সত্যিকার ভাষা হিসেবে স্বীকার করেন।
ভাষা মাত্রই ভাবের আদান প্রদান জরুরী
গণিত দিয়ে আমরা বিশাল মহাবিশ্বের বিবিধ রহস্য থেকে শুরু করে কোষের ক্ষুদ্র জটিল জগত এমনকি ডিএনএ পর্যন্ত ব্যাখ্যা করতে পারি। শুধু তা- নয়, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুকেও ব্যাখ্যা করতে পারি। গ্রহদের গতি, জটিল রোগের প্রতিকার এমনকি ঘরের দরজা থেকে বেরিয়ে কর্মস্থল বা শিক্ষাঙ্গন, পার্ক যেখানেই যাই না কেন গণিতের অস্তিত্বকে ঝেড়ে ফেলার কোনো উপায় নেই। কম্পিউটার আর তথ্য বিনিময়ের অতিকায় বিপ্লবের বিস্তারিত কথা না- বললাম।

দৈনন্দিন জীবনে গণিত আষ্টেপৃষ্ঠে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে আমরা তার খানিকটাও দেখতে পাই না। অনেকটা বাতাসের সমুদ্রে থেকে বাতাসকে না দেখার মতো। আমাদের সহজাত প্রবৃত্তির কারণে আমরা হয়তো অভ্যাসের ভেতর থেকে ছেঁকে এনে ততটা খেয়াল করি না গণিতকে, কিন্তু যদি বলা হয় শুধুমাত্র সংখ্যা ছাড়া একটা দিন চলতে, তাহলে কি কেউ পারবে?

আধুনিক পৃথিবীর কোনো কল্পনায় আপনাকে নাহয় না ভাসালাম। আদিম সমাজের গুহাবাসী কোনো পরিবারের কর্তাকে যদি কেউ বলতো, তোমার কয় ছেলেমেয়ে গো?

কর্তাকে ছেলেমেয়েদের বের করে এনে দেখাতে হতো এই যে এরা! সংখ্যা না থাকলে এছাড়া আর কী উপায় আছে বলার? কর্তা যদি প্রতিকী দাগ দিয়ে, পাথর কিংবা কাঠি দিয়েও ছেলেমেয়ের সংখ্যা বোঝাতে যায় তাহলেও কিন্তু বিপদ! গণিত ঢুকে যাবে এতে!

আমাদের সকল ক্ষেত্রে আষ্টেপৃষ্ঠে এমনভাবে বিজড়িত একটি বিষয়কে ভাষা না বললেও, এর গুরুত্ব ভাষার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

সূত্র: roarmedia

বিল গেটস ৩ বিষয়ে পড়ার পরামর্শ দিলেন

Detail


ফের কলেজে ভর্তি হতে পারলে পড়াশোনার বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নিতেন  আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
 এনার্জি বা বিদ্যুৎ ও বায়োসায়েন্স। গেলো সোমবার এক টুইটে এমনটা বললেন এ ধনকুবের বিল গেটস। 
সম্প্রতি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তরুণদের দারুণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাতে আছে   ভবিষ্যতে  তারা কী করবেন,
 কোন পেশায় যাবেন বা কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবেন তা নিয়ে নানান পরামর্শ।

আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এনার্জি বা বিদ্যুৎ ও বায়োসায়েন্স ।
 বর্তমানে এ তিন বিষয়কে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে উল্লেখ করে বিল গেটস বলেন,
এ বিষয়গুলোর কোনো একটিতে পড়াশোনা করে বিশাল প্রভাব রাখা যায়।
প্রযুক্তি ও অর্থনীতি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আসছে দু’দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এতটাই পরিবর্তন আসবে
 যে অনেক প্রতিষ্ঠান কাজের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেবে। কারখানা, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান,
এমনকি খুচরা বিক্রির দোকানগুলোতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া শক্তির উৎস হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তি,
 যেমন: সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়বে। আসছে ১৫ বছরের মধ্যেই বৈদ্যুতিক খাতে
অবিশ্বাস্য পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করেন বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি বিল গেটস।
 তিনি বলেন , বায়োটেকনোলজি বা জীবপ্রযুক্তির প্রবৃদ্ধি দ্রুত ঘটছে। অনেক ব্যক্তিমালিকানাধীন
প্রতিষ্ঠান উন্নত ওষুধ তৈরি থেকে শুরু করে চিকিৎসা খাত উন্নত করতে কাজ করছে।
 তাই এই তিন ক্ষেত্রের যেকোনো একটি এখন বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
 ১৮ বছর বয়সের তরুণদের জন্য গেটসের পরামর্শ, ‘তোমাদের বয়সে আমি অনেক কিছু করেছি।
 তোমরাও দ্রুত যেকোনো জায়গা থেকে অসমতার বিরুদ্ধে কাজ শুরু করে দিতে পারো।’

সূত্র: educarnival

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এ পড়তে চায় যারা

Detail
এইচ.এস.সি পরীক্ষা শেষ করেই অনেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। স্বপ্নের ক্যাম্পাসে পা রাখতে হলে কীভাবে এগোবেন? পরামর্শ দিয়েছেন বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম—আসিফ ইকবাল

১. পড়তে হবে মনোযোগ দিয়ে
যতটুকু পড়বে, মনোযোগসহকারে পড়বে। সারা দিন পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। কবে কোন বিষয়টা পড়বে, শুরুতেই সেটার একটা রুটিন করে নেওয়া ভালো।
২. প্রশ্নপদ্ধতি এবং মানবণ্টন সম্বন্ধে ধারণা
সিলেবাস এক হলেও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরনে বেশ পার্থক্য আছে। প্রশ্নপদ্ধতি, মানবণ্টন, সময় ইত্যাদি সম্বন্ধে একটা স্বচ্ছ ধারণা রেখে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
৩. চোখ রাখো বিগত বছরের প্রশ্নে
বিগত বছরের বুয়েট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো অবশ্যই শুরু থেকে সমাধান করা উচিত। পুরোনো প্রশ্নগুলো দেখলে যেমন প্রশ্ন সম্পর্কে একটা ধারণা হবে, তেমনি প্রস্তুতির ফাঁকফোকরগুলোও ধরা পড়বে।

৪. পদার্থবিজ্ঞানে বেশ কিছু বই দরকার
পদার্থবিজ্ঞানের অঙ্কগুলো যেকোনো একটা বই থেকে না করে কয়েকটা বইয়ের সব অঙ্ক করতে পারলে ভালো। সূত্রের প্রমাণগুলো খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে।

৫. গণিতে চাই চর্চা
গণিতের ক্ষেত্রে একের অধিক বই অনুসরণ না করে যেকোনো একটা বই অনুসরণ করে সব অঙ্ক করে ফেলো। যে অঙ্কগুলো তুমি পারো, সেগুলোও বারবার চর্চা করতে হবে। গণিতে ভালো করতে হলে চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

৬. লিখে পড়ো রসায়ন
গণিতের মতো রসায়নেও যেকোনো একটা বই ভালোমতো অনুসরণ করা উচিত। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর নিচে দাগ দিয়ে রাখবে। আর লিখে লিখে পড়লে মনে থাকে সব থেকে বেশি। চাইলে অন্যান্য বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোও নোট করে রাখতে পারো।
৭. নিজের ‘স্টাইলে’ পড়ো
তুমি কোন বিষয়টা ভালো পারো আর কোনটা পারো না, কীভাবে পড়লে পড়া বুঝতে সুবিধা হয়—এসব তুমিই ভালো জানো। কোচিং কিংবা মডেল টেস্টের ওপর বেশি গুরুত্ব না দিয়ে নিজেকে সময় দাও। নিজেই নিজের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করো, নিজেই নিজের পরীক্ষা নাও।

৮. সবার আগে সুস্থ থাকা
সামনের চার মাস সুস্থ থেকে পড়াশোনা করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। অসুস্থ হয়ে দুইটা দিন নষ্ট করা মানেও অনেক বড় ক্ষতি। তাই অবশ্যই শরীরের প্রতি যত্ন নেবে। খাওয়া-ঘুম বাদ দিয়ে পড়তে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যেয়ো না।

৯. বইয়ের সহায়ক ইন্টারনেট
বইয়ে সব বিষয় বিশদভাবে বলা থাকে না। কিছু বিষয় পুরোনো বই থেকে পড়ে নিতে হবে। চাইলে ইন্টারনেট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারো। ইউটিউবে কিছু ভিডিও পাবে, যেখানে সহজ করে অনেক জটিল জিনিসও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বই পড়তে পড়তে একঘেয়ে লাগলে সেগুলোও দেখতে পারো।

১০. আত্মবিশ্বাসী হতে হবে
সত্যি বলতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো এমন হয় যে জানা জিনিসগুলোও অনেক সময় গুলিয়ে যায়। তাই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে বারবার প্রশ্নটা পড়তে হবে, দেখবে উত্তরটা ঠিকই মাথায় আসবে। নিজের ওপর আস্থা রেখো।

সূত্র: educarnival

কোন MB ছাড়াই নিয়মিত ভিজিট করুন Uno Badalgachi ব্লগ!

Detail

কোন MB ছাড়াই নিয়মিত ভিজিট করুন 

Uno Badalgachi ব্লগ!

 

Uno Badalgachi ব্যাবহার করতে আপনাকে এখন ডাটা খরচ করতে হবেনা! MB খরচের চিন্তা ছাড়াই এখন সবসময় যুক্ত থাকুন

Uno Badalgachi এর সাথে এবং জানতে থাকুন,  শিখতে থাকুন! 

কীভাবে ফ্রিতে ডাটা ছাড়াই

Uno Badalgachi ব্যাবহার করবেন সেটা নীচে ছবিসহ দেখানো হলোঃ

১। প্রথমে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এ লগইন করে Menu তে যান এবং Free Basics ট্যাবে ক্লিক করুন।

 ২। এবার ভাষা (বাংলা/ইংরেজি) সিলেক্ট করে পরবর্তী চাপুন।

 

 ৩। এখন আপনি এরকম একটি পেজ দেখে পারবেন। স্ক্রল করে পেইজের একদম নীচে চলে যান এবং "আরও বিনামূল্যের পরিষেবা যোগ করুন" অথবা “Add More Services” লিখাটিতে ক্লিক করুন।

ক্রল করে নীচের অংশে যাওয়ার পর...

 ৪। সার্চ অপশনে Uno Badalgachi লিখে সার্চ করুন।


 ৫। এবার আপনি Uno Badalgachi লিস্টে দেখতে পারবেন। যোগ (+) চিহ্নে ক্লিক করুন এবং যোগ করুন।


 
৬। অভিনন্দন! এখন থেকে আপনি সম্পূর্ণ ফ্রিতে কোন MB ছাড়াই Uno Badalgachi ব্যাবহার করতে পারবেন।
৭। পরবর্তীতে যেকোনো সময় Uno Badalgachi ভিজিট করতে হলে মেন্যু থেকে Free Basics এ ঢুকে "সর্বাধিক ব্যাবহৃত" বা "Most Used” ট্যাব থেকে ক্লিক

Uno Badalgachiএ ক্লিক করুন এবং ভিজিট করুন!

যেকোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে করতে পারেন। ইউএনও বদলগাছী একটি বিনামূল্যের শিক্ষা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম। সবার সাথে ছড়িয়ে দিন এই ব্লগটি। নিজে শিখুন এবং অন্যদের শিখান! সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 


মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবহার

Detail

আজ পৃথিবী ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বলে গণ্য। বিজ্ঞানের ক্রম-অগ্রগতির এ সময়টিকে বিশ্বজুঁড়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির যুগ হিসেবে। বর্তমানে সামরিক বা পারমাণবিক শক্তি নয় তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা দ্বারাই নির্ধারিত হচ্ছে দেশ বা রাষ্ট্রের ক্ষমতা। বিজ্ঞানের যুগ পেরিয়ে এখন আমরা প্রযুক্তির যুগে। প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার মানব সভ্যতায় আমাদের পৃথিবীটাকে ‘গ্লোবাল ফ্যামিলি’তে পরিণত করেছে। মানুষ গোটা পৃথিবীকে নিজের বশে এনেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায়। মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ইন্টারনেট ইত্যাদির উদ্ভাবন মানব সভ্যতাকে পৌঁছে দিয়েছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্ব শর্ত তথ্য ও প্রযুক্তির নিত্য ব্যবহারে বাংলাদেশও আজ এগিয়ে যাচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যপানে।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়। এ সরকারের আমলে শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল বা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ আন্দোলনের একটি অন্যতম ক্ষেত্র বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমাদের শিক্ষায় এর সফল সংযোজন ঘটিয়েছে সরকার। আমাদের শিক্ষার নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের শিক্ষাকে টেকসই ও মানসম্মত পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দিতে সহায়তা করছে। ই-বুক প্রণয়ন, কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীর তথ্য সংরক্ষণ, শ্রেণি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে পাঠ উপস্থাপন ইত্যাদি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার ম্যারাথন দৌড়ে আমাদের জাতিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আইসিটি শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তুলে ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নে আইসিটি শিক্ষার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ।
শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরনে বিশ্বায়নের যুগে উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও শিক্ষার প্রচলিত ধারার শিখন-শেখানো পদ্ধতির পরিবর্তে শিখন-শেখানো পদ্ধতিতে তথ্য- প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হয়েছে। কম্পিউটার শিক্ষা বা ল্যাবভিত্তিক বদ্ধমূল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। কঠিন, দূর্বোধ্য ও বিমূর্ত বিষয়সমূহকে শিক্ষকগণ ছবি, অ্যানিমেশন ও ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করার মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রমকে আনন্দময় করে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়,
পঠন দক্ষতা উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (iCT)’র সমন্বয় ঘটানোয় প্রমিত উচ্চারণ শেখা, বোধগম্যতার উন্নয়ন, পড়ার আগ্রহ তৈরি এবং সর্বোপরি পাঠাভ্যাস সৃষ্টিতে আইসিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে পাঠকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা, কঠিন বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা, শিক্ষার্থীদের সহজে শিখন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং সৃজনশীল প্রশ্নের অনুশীলন কার্যক্রম খুব সহজভাবেই পরিচালিত করা হচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ, হৃদপিন্ড, পাকস্থলী ও ফুসফুসের কার্যপ্রণালী; উদ্ভিদের বৃদ্ধি, শ্বসন ও অঙ্কুরোদগম; প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের নানা কার্যকারণ সম্পর্ক শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর ক্ষেত্রে ছবি, অ্যানিমেশন বা ভিডিও’র কোন বিকল্প নেই। ইংরেজী, বাংলা, সমাজ, ধর্মসহ প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরকে সুস্পষ্ট ও বৈশ্বিক ধারণা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (A2i) প্রোগ্রামের উদ্যোগে ৭টি বিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষক নিয়ে পাইলট আকারে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম কার্যক্রম শুরু করা হয়। A2i প্রোগ্রামের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারাদেশে পঁচিশ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়।
A2i প্রোগ্রামের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শিক্ষকগণ বিজ্ঞান, গণিত, ভূগোল, ধর্ম, বাংলা, কৃষিশিক্ষাসহ প্রতিটি বিষয়ের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করছেন ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে ব্যবহার করছেন। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহারের মাধ্যমে গতানুগতিক শিক্ষক-কেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক আনন্দময় শিক্ষায় রূপান্তর করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম মনিটরিং ও মেইনটেনিং-এ জেলা-উপজেলা প্রশাসন, জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিস ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
২০১৩ সালে ১৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের একটি ইমপ্যাক্ট স্টাডির ফলাফলে দেখা যায় যে, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, সেখানে শিক্ষার্থীরা ক্লাস লেসন ভালভাবে বুঝতে পারে এবং তাদের মুখস্থ বিদ্যার প্রবণতা কমেছে। এ সকল শিক্ষার্থীদের শেখার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে এবং ক্লাসে তাদের একঘেয়েমিভাবও দূর হয়েছে।
এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকগণের সাক্ষাতকার গ্রহণ করে জানা যায় যে, ইন্টারনেট সার্চ করে বিভিন্ন দেশের শিখন-শেখানো উপকরন ডাউনলোড করে নিজ সংস্কৃতি, বিষয় ও শ্রেণি উপযোগী কনটেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি পেয়েছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বেড়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের সাথে খুব সাবলীলভাবে যোগাযোগ স্থাপন ও অতি সহজেই ক্লাস পরিচালনা করতে পারছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের মতামত বিশ্লেষন করে দেখা যায় যে, এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পূর্বের থেকে ভাল হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাত্রা বেড়েছে এবং শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ঘটছে।
দেশের শত বছরের পুরাতন শিক্ষাদান পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটিয়ে সরকার ডিজিটাল ক্লাস রুম-এর কর্মসূচীর উদ্দেশ্য কেবল তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা নয়; বরং শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা। প্রচলিত ধারায় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের কাছে একটি কঠিন ও নিরস বিষয়। এ ধারায় পাঠ্যপুস্তকের বিষয়সমূহ শিক্ষকগণ শ্রেণীকক্ষে যেভাবে উপস্থাপন করেন তাতে শিক্ষার্থীরা পঠিত বিষয়ের প্রতি কিছুতেই আগ্রহী হয়ে উঠছে না। শিক্ষা-বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা যাচ্ছে না এবং বিষয়বস্তু ঠিক মতো বোধগম্যও হচ্ছে না। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পঠিত বিষয়কে না বুঝেই আত্মস্থ করার চেষ্টা করছে। ফলে প্রকৃত শিখনফল অর্জিত হচ্ছে না। পরীক্ষায় ফল ভালো করলেও কর্মজীবনে গিয়ে অর্জিত শিক্ষাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজিত এই সমস্যাকে দূর করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ক্লাসরুম একটি শুভ সূচনা। এতে শিক্ষা বিষয়টিকে শিক্ষার্থীর নিকট অনেক বেশি আনন্দময়, সহজবোধ্য করে তোলা হচ্ছে। শিক্ষা হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘শিক্ষকদের দ্বারা ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি’ এটুআই প্রকল্প কর্তৃক উদ্ভাবিত আরেকটি উল্লেখ করার মতো বিষয়। ডিজিটাল কনটেন্ট হলো পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত বিষয়কে শব্দে, ছবিতে ও গতিময়তায় উপস্থাপনের জন্য নির্মিত শিক্ষকদের তৈরি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপকরণ। শিক্ষকগণ আগে থেকেই কম্পিউটারে পাওয়ার পয়েন্ট প্রোগ্রামে বিভিন্ন ভিডিও, অডিও, ইফেক্ট, এনিমেশন ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকের কনটেন্টকে স্লাইডে রূপান্তরি করেন। পরে শ্রেণী কক্ষ্যে সেটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে পাঠ্যপুস্তকের কালো অক্ষরে বর্ণিত ঘটনা বা বিষয় শিক্ষার্থীর কাছে শব্দে, চিত্রে, গতিময়তা, ভিডিও এবং এনিমেশনের মাধ্যমে সহজেই জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠছে। শিক্ষকদের তৈরি ডিজিটাল কনটেন্ট একটি বিশেষ ওয়েব সাইট এবং জাতীয় ই-তথ্যকোষে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকগণ এ সব সাইট থেকে ডিজিটাল কনটেন্ট সংগ্রহ করে এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পাদনা করে শ্রেণীকক্ষে ব্যবহার করতে পারেন। এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তি তথা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আজ ক্লাসে নিত্যদিনের শিক্ষাপোকরণ।
ডিজিটাল ক্লাসরুম এবং কনটেন্টের ব্যবহার আমাদের দেশে নতুন হলেও উন্নত দেশগুলোতে এর প্রচলন আগেই হয়েছে। এখন বিশ্বজুড়ে বিদ্যালয়গুলোতে শ্রেণীকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন ও এ নিয়ে গবেষণা চলছে। এ বিষয়ে উন্নত দেশগুলো এমনকি ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো এগিয়ে থাকলেও আমাদের দেশে বাস্তবে শ্রেণী পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিক্ষকগণ প্রচলিত শিক্ষাদান পদ্ধতি ব্যবহার করেই শ্রেণী পাঠদান পরিচালনা করতে বেশি উৎসাহী যা শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।
অর্থাৎ শিক্ষকগণ শুধু পাঠ্যপুস্তক, চক, ডাস্টার, বোর্ড ব্যবহার করেই শিক্ষক-কেন্দ্রিক শ্রেণী পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন। এর নানাবিধ কারণ থাকলেও মূল কারণ শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শ্রেণী কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষকদের অনিহা ও অনভিজ্ঞতা। আধুনিক শিক্ষা বিজ্ঞান বলছে, শ্রেণীকক্ষের পাঠদান কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে না পারলে পাঠদান ফলপ্রসূ হয় না। এ জন্য শিক্ষককে বিভিন্ন কলা-কৌশল প্রয়োগ করতে হয়। শ্রেণী কার্যক্রমের শুরুতে শিক্ষক এমন কিছু উপকরণ প্রদর্শন করবেন যা শিক্ষার্থীদের জীবনঘনিষ্ঠ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে বাস্তব বা মূর্তমান হয়। অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে এবং পাঠ শিরোনাম তারাই বের করে আনবে। শ্রেণীকক্ষে উপস্থাপিত বিষয়বস্তুর সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা-অসুবিধা, পার্থক্য ইত্যাদি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বের করবে এবং তা করার জন্য শিক্ষক সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করবেন। উপজেলা প্রশাসন, নাইক্ষ্যংছড়ি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত ও আনন্দময় প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দূর্গম নাইক্ষ্যংছড়ির ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষকদের ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরীতে প্রশিক্ষণ প্রদান, শিক্ষার্থীদের naikonsare-4মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি, উম্মুক্ত জ্ঞানের অবাধ প্রবাহ প্রভৃতি বিষয়ে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বিদ্যুতবিহীন স্কুল সমূহে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার ও শিক্ষকদের ৩-জি সিম সম্বলিত ট্যাব প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক সরেজমিনে বিদ্যালয় সমূহে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিদর্শন ও তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
আমাদের শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর এ কাজ সম্পাদনে শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর কোন বিকল্প নেই। বিদ্যালয় জীবনের শুরুতে পড়ার মজবুত ভিত নিশ্চিত করার মাধ্যমে একই শ্রেণিতে শিশুর পুনরাবৃত্তি এবং প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ঝরে পড়ার হার হ্রাস করার জন্য তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ অপরিহার্য। আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানের এই প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে শিক্ষার প্রধান শক্তিশালী হাতিয়ার আইসিটি। দিনে দিনে বিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের যে ভীতি বা অনাগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে; আইসিটি ব্যবহার করে ক্লাস নিতে পারলে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।
এমডিজি অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষায় আইসিটির ব্যবহার বাংলাদেশের ব্যাপক সাফল্য নিশ্চিত করেছে। এসডিজিতেও সরকার মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি অপরিসীম গুরুত্ব দিয়েছে এবং ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে এ সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারের ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম
উপজেলা নির্বাহী অফিসার
নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান।

তথ্য সূত্র:
একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ঢাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা।

শিক্ষার মান উন্নয়ন

 
Support : | RSTSBD | RSTSBD
Copyright © 2017. রূপকল্প ২০৪১ - All Rights Reserved
This Blog Published by RSTSBD
Created by Uno Badalgachi