নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী
ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী
ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে উপজেলার সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্ব শাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ও বেসরকারি ভবন সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে শনিবার সকাল ৯ টায় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাঃ আবু তাহির এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা
সভা শুরু হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন স্থানীয়
সাংসদ মোঃ ছলিম উদ্দীন তরফদার (সেলিম)।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম খান, ভাইস চেয়ারম্যান
ইমামুল আল হাসান তিতু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আ.জ.ম. শফি মাহমুদ, সাধারন সম্পাদক
আবু খালেদ বুলু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহারুল ইসলাম, থানার ওসি চৌধুরী
জোবায়ের আহাম্মদ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মন্ডল ও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা
সংসদের কমান্ডার জবির উদ্দীন (এফ.এফ) প্রমূখ।
আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ
সম্মেলন কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
Latest Activities
Showing posts with label ১৫ ই আগষ্ট. Show all posts
Showing posts with label ১৫ ই আগষ্ট. Show all posts
বদলগাছীতে ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে
Labels:
১৫ ই আগষ্ট,
জয় বঙ্গবন্ধু
আজ প্রথম দিন শোকের মাস আগস্ট ২০১৯
শোকের মাস আগস্টের প্রথম দিন আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে নরপিশাচরূপী ঘাতকচক্র। এরপর থেকে এ দিনটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধুর শোকের দিন হিসেবে পরিচিত।
তাই আগস্ট মাসকে পুরো জাতি পালন করে শোকের মাস হিসেবে। ১ আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, শোক ও ভালোবাসায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে।
বঙ্গবন্ধু ত্যাগ, সংগ্রাম, বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, অদম্য স্পৃহা, দৃঢ় প্রত্যয়, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত আত্মত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন।
তার নেতৃত্বে ১৯৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম, ’৪৮-এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন, ’৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগ’-এর নিরঙ্কুশ বিজয়সহ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যায়।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে ঐক্যবদ্ধ হয় বাঙালি জাতি। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক।
বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা- বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু ঘাতকরা তার সে স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। তারই নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া দেশেই ঘাতকরা এই আগস্টে তাকে সপরিবারে হত্যা করে।১৫ আগস্ট ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এ হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির জনকের ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হন।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্কের বোঝা বহন করে।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এ বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেন শেখ হাসিনা।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাও বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে থাকেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।
সূত্র: যুগান্তর
Labels:
১৫ ই আগষ্ট
জাতীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম
১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা প্রথমে সোজাভাবে রশির সাহায্যে পতাকা দণ্ডের মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর দণ্ডের মাথা থেকে পতাকার প্রস্থের সমান নিচে নামিয়ে পতাকাটি বাঁধতে হবে।
দিনশেষে পতাকাটি যখন নামাতে হবে তখন পতাকাটি আবার দণ্ডের মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে এবং তারপর ধীরে ধীরে নামাতে হবে।
পতাকা বিধিতে বলা হয়েছে, পতাকার রঙ হবে গাঢ় সবুজ এবং সবুজের ভেতরে একটি লাল বৃত্ত থাকবে। জাতীয় পতাকার মাপ হবে দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ৬ ফুট।আয়তাকার ক্ষেত্রের গাঢ় সবুজ রঙের মাঝে লাল বৃত্ত এবং বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যসার্ধবিশিষ্ট হবে। ভবনে উত্তোলনের জন্য পতাকার তিন ধরনের মাপ হচ্ছে ১০ ফুট বাই ৬ ফুট , ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট।
ছেঁড়া বা বিবর্ণ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। মানসম্মত কাপড়ে যথানিয়মে তৈরি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। বাসস
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা প্রথমে সোজাভাবে রশির সাহায্যে পতাকা দণ্ডের মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর দণ্ডের মাথা থেকে পতাকার প্রস্থের সমান নিচে নামিয়ে পতাকাটি বাঁধতে হবে।
দিনশেষে পতাকাটি যখন নামাতে হবে তখন পতাকাটি আবার দণ্ডের মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে এবং তারপর ধীরে ধীরে নামাতে হবে।
পতাকা বিধিতে বলা হয়েছে, পতাকার রঙ হবে গাঢ় সবুজ এবং সবুজের ভেতরে একটি লাল বৃত্ত থাকবে। জাতীয় পতাকার মাপ হবে দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ৬ ফুট।আয়তাকার ক্ষেত্রের গাঢ় সবুজ রঙের মাঝে লাল বৃত্ত এবং বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যসার্ধবিশিষ্ট হবে। ভবনে উত্তোলনের জন্য পতাকার তিন ধরনের মাপ হচ্ছে ১০ ফুট বাই ৬ ফুট , ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট।
ছেঁড়া বা বিবর্ণ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। মানসম্মত কাপড়ে যথানিয়মে তৈরি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। বাসস
Labels:
১৫ ই আগষ্ট
বঙ্গবন্ধু কোন দলের নয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের
স্বাধীনতার বয়স এখন ৪৭ বছর। বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের ওপরে। এই ৪৭ বছরে আমাদের কত অর্জন, কতো ব্যর্থতা দৃশ্যমান। এই সব অর্জনে আমরা যেমন মাথা উঁচু করে বুক ফাটিয়ে স্লোগান দেই, খুশিতে আত্মহারা হই, ঠিক ব্যর্থতা দেখলে আমাদের শুধু মন খারাপই হয় না আজ, আমাদের শক্তি আর সাহস দুটোই হারিয়ে ফেলি ৭৫ এর ১৫ আগষ্টের মতো। আজ আমাদের সবকিছুর মাঝে বঙ্গবন্ধু থাকলে কতই না সুন্দর হতো। তখন হয়তো আমরা এতটা বিভক্ত হতাম না। আমাদের এত দাবি থাকতো না আজ। এই বাংলাদেশ হয়তো বিশ্বের নেতৃত্বশীল দেশগুলোর একটি হতো। আমরা হতাম বিশ্বায়নের বিশ্ব।
নৃশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে কালো অধ্যায়। এটা বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় তিনি যেমন ভাবতে পারেননি, তেমনি বাংলার নিষ্পাপ মাটিতে বঙ্গবন্ধুর রক্তেভেজা নিথর দেহটি দেখে আমরা বাকরুদ্ধ হয়েছি। আজও সেই দৃশ্য যখনই আমরা দেখি, মনের অজান্তেই আমরা অভিশাপ দেই নিজেদের। এতটা বর্বরতা কিভাবে সম্ভব কোন মানুষের পক্ষে? স্বাধীনতার পর মাত্র ৪ বছরের মাথায় বাংলার মাটি রক্তে লাল হয়েছে শেখ মুজিবের রক্তে। ত্রিশলক্ষ্য শহীদ আর দুলক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের ক্ষত শুকাতে না শুকাতে মুক্তিযুদ্ধের মহা নায়ককে হত্যা করা হলো। সেদিন আমরা হারিয়েছি রাজপথের মহানায়ককে। আমরা হারিয়েছি স্বাধীনতার কাণ্ডারিকে। আমরা হয়ে গেছি এতিম। তবুও আজ আমাদের যত অর্জন আর যত ব্যর্থতা সবই ঘিরে আছে একটি নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। আজ যেন বাংলাদেশেরই অপর নাম ‘বঙ্গবন্ধু’।
ঘাতকেরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে মারলেই বাংলা হয়ে যাবে ঘাতকদের রাজত্ব। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাংলার মানুষের জন্যে দ্বিতীয় জীবনের অনুপ্রেরণা। যে নামে কবি কবিতা লিখতো আর মাঝি গলা ছেড়ে মাঝ দরিয়ায় সুর তুলতো মিষ্টি কণ্ঠে…‘তুমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, একাত্তরে জন্ম নেওয়া বাঙ্গালীর আরেক না…’।
৭৫ এর ১৫ আগষ্টের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার মাটি থেকে বঙ্গবন্ধুর দৈহিক মরণ ঘটেছে সত্য, কিন্তু বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন বাংলার মুক্তিপাগল গণমানুষের হৃদয়ে। যেভাবে শিশুর পিতা ঘুমিয়ে থাকে সব শিশুর অন্তরেভ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। সেজন্যে মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালে শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী সন্তান ও আমাদের কাছে সম্মানিত। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের জন্যে পাকিস্থান সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। ৭ ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণই ছিল মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূলমন্ত্র। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে আজ সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙ্গালীর স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু আজীবনই আমাদের কাছে প্রিয় নেতা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবির্ভাবের আগে বাঙালির প্রিয় নেতা ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন ব্রিটিশদের বলয়ে থেকে। তিনি ব্রিটিশ ভারতের পরাধীন মানুষকেও সে স্বপ্ন পূরণে রক্ত দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, নেতাজি তাঁর জীবদ্দশায় নিজ দেশকে স্বাধীন দেখে যেতে পারেননি। আমাদের বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের বলয়ে থেকে বাঙ্গালীদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আমাদের বঙ্গবন্ধু দেখে যেতে পেরেছিলেন স্বাধীনতা।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানুষের অধিকারের জন্যে, স্বাধীনতার জন্যে বঙ্গবন্ধুর মতো কাজ করে গেছেন অনেকেই। তবে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একেবারেই আলাদা। বিশেষ করে আমাদের কাছে বঙ্গবন্ধু জীবর আর মরণের মতো ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলাকে বঙ্গবন্ধুর সাথে তুলনা করছি আমি। তাঁরা দুজনেই জীবনের দীর্ঘ সময় কারান্তরালে কাটিয়েছেন, নিগ্রহের মুখোমুখি হয়ে আপসের কথা ভাবেননি। বঙ্গবন্ধু আর ম্যান্ডেলার মধ্যে মিল হলো যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেছিলেন—মুক্ত, স্বাধীন স্বদেশ—নিজের জীবদ্দশাতেই তার বাস্তবায়ন দেখে গেছেন।
যে সময় বঙ্গবন্ধু তরুণ এবং দীপ্ত কৈশর, তখন নেতাজি কলকাতার মেয়র ও কংগ্রেসের নেতা। পৃথিবীর তিনপ্রান্তে সংগ্রামী তিনমুখ বঙ্গবন্ধু, নেতাজি সুভাষ বসু এবং ম্যান্ডেলা কেউ কারো সঙ্গে কখনো মুখোমুখি বসার সুযোগ আসেনি, কিন্তু তিন নেতা এক অদৃশ্য সুতোয় একে অপরের সঙ্গে বাঁধা ছিলেন। তাঁরা তিনজনই পরাধীন জাতির মুক্তির সফল স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। শুধু নিজ নিজ দেশ বা জাতির নয়, পৃথিবীর যেখানেই নিপীড়িত মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়ছেন, এই তিন নেতা তাঁদের জন্য আশার প্রতীক হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের অভিন্ন উদ্দেশ্য মানুষকে অত্যাচার, অন্যায় এবং গণতন্ত্রের মুক্তি দিয়েছে। তাঁরা তিনজনই নিজের উদাহরণে ব্যক্তি আমি থেকে আমরা হয়ে ওঠতে পেরেছেন।
গণমানুষের জন্যে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির হাতেখড়ি ১৬ বছর বয়সে। স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গ নিয়ে মানুষের সাথে মেশা শুরু করেন যে বঙ্গবন্ধু সেই বঙ্গবন্ধুই এক সময় হয়ে ওঠেন বাঙ্গালীর পরিচয়। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি পড়তে গিয়ে কারাবরণের বিভিন্ন স্মৃতিতে অশ্রু টলমল করেছে আমার। আমি মনে করি এটা সবার পড়া উচিত। তাহলে আমাদের মনের অন্ধকার দূর হবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে।
বেশি দূর পড়া যায় না, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে বর্ণমালা গুলোর উচ্চারণে।
বঙ্গবন্ধু ১৬ বছর বয়সে যে স্বদেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, ২০১৮ সালে এদেশের তরুণ প্রজন্ম তেমনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গতকাল ১৩ আগষ্ট কুর্মিটোলায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, বাচ্চারা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাচ্চাদের আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন ইতিবাচক মন্তব্যকে আমি অভিনন্দন জানাই।
রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে আদর্শ অনেক বড়, এই চেতনা বঙ্গবন্ধু অর্জন করেছিলেন নিজের সংগ্রামের ভেতর দিয়ে। ম্যান্ডেলাও তাই করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী অান্দোলনে কারাবরণকারী ম্যান্ডেলাকে সরকার বারবার প্রস্তাব দিয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধিতা ত্যাগ করলে মুক্তি পাবে। কিন্তু ম্যান্ডেলা রাজি হননি। সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রীর চিঠির প্রস্তাবও ম্যান্ডেলা জেল থেকেই দিলেন এভাবেই—‘নিজের মুক্তি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার জনগণের মুক্তি। আমি আমার জন্ম-অধিকার বিক্রি করতে পারি না, যেমন বিক্রি করতে পারি না আমার মানুষের মুক্ত হওয়ার অধিকার। আমি জেলে আসার পর অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন। সেসব সন্তানহীন বাবা-মা, স্বামীহারা বধূ ও বাবাহারা সন্তানদের প্রতি আমার ঋণ ভুলে এই মুক্তি আমি চাই না।’
বঙ্গবন্ধুকেও ক্ষমতার লোভ দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীত্ব হবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন গণমানুষের কথা ভেবে। আমাদের স্বাধীনতার কথা ভেবে। আমাদের মুক্তির জন্যে জড়ো করেছেন। সংগ্রামী করে তুলেছেন। স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আজ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা আছে কিন্তু বঙ্গবন্ধু নেই। আজ আমাকে লিখতে হচ্ছে তিনি ছিলেন। খুবই দু:খ হয় ছিলেন লিখতে কিন্তু নির্মম সত্যটা আজ সবাইকেই লিখতে হচ্ছে, লিখছিও তাই।
নেতাজি, বঙ্গবন্ধু অথবা ম্যান্ডেলা—কেউই এখন আর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু ইতিহাসে আজও জীবন্ত তাঁদের কর্ম আর ত্যাগ। কীভাবে তাঁদের মনে রাখব, তার দায়ভার তাঁদের নয়, আমাদের। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সবার স্মরণ করা উচিত শ্রদ্ধার সাথে। বঙ্গবন্ধু কোন দলের নয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের। অন্তত বাঙ্গালী জাতি হিসাবে নিজেদের পরিচয় দিতেও বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা উচিত। যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকে অহিংস আত্মায় সম্মান দিতে না পারি, তাহলে আজ বাংলাদেশ অসম্মানিত হবে। বাংলাদেশ ভাগ হতে পারে। বাংলাদেশে আবারো ১৫ আগষ্ট ঘটতে পারে। বাংলাদেশ পথ হারাতে পারে…।
লেখক : আরিফ চৌধুরী শুভ।।
Labels:
১৫ ই আগষ্ট
১৫ ই আগষ্ট
- ১৫ ই আগষ্ট
- ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬
- ২৬ শে মার্চ
- Birthday Party
- Happy New year -2017
- kadamgachi
- new year -2017
- samara
- software
- uno
- আই.সি.টি
- আইসিটি
- আউটসোর্সিং
- আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস- ২০১৮
- ইউএনও
- ইতিহাস
- উন্নয়ন মেলা ২০১৮
- এটুআই
- এলাকার উন্নয়ন
- এসএসসি ফলাফল ২০১৭
- ঐপাহাড়পুর
- কবিতা
- করোনা
- কুইজ
- কৃষি
- কোরনা-১৯
- ক্রিকেট
- ক্রীড়া
- খেলাধুলা
- গণিত
- জয় বঙ্গবন্ধু
- জয় বাংলা
- টিউরোরিয়াল
- ডিজিটাল ক্লাস রুম
- তথ্য আপা
- ত্রান
- নওগাঁ জেলা
- নকল
- নির্দেশনা
- প্রশাসন
- প্রাইমেরী স্কুল
- ফুটবল
- ফ্রিল্যান্সিং
- বঙ্গবন্ধু
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট - ১
- বিএমডিএ
- বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি ক্লাব
- বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি সপ্তাহ
- বিদ্যাসাগর ইন্সটিটিউট
- বিশ্বকাপ ২০১৮
- ভিশন ২০২১
- ভিশন-২১
- ভ্রাম্যমান আদালত
- মাদকাসক্তি নিরাময়
- মাদার অফ হিউম্যানিটি
- মুক্তিযুদ্ধ
- মুজিবনগর দিবস
- রোভার স্কাউট
- শাটডাউন
- শিক্ষা বৃত্তি
- শিক্ষার মান উন্নয়ন
- শুভ নববর্ষ '১৪২৪
- সমস্যা
- সমাধান
- সহস্র সুমন
- সামাজিক উন্নয়ন
- স্বাস্থ্য সেবা
- স্যাটেলাইট
- Display All





